বরগুনা প্রতিনিধি ::
চিকিৎসা করাতে ঢাকা যাচ্ছেন বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় বরগুনা লঞ্চঘাট থেকে এমভি শাহরুখ লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে আছেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর, নানা জাকির সিকদার ও অন্য এক আত্মীয়।
এ ব্যাপারে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই আমার মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। কারও সঙ্গে কথা বলে না, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না। দিনকে দিন সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মিন্নিকে ঢাকা নিয়ে যাচ্ছি।’ মিন্নিকে চিকিৎসক দেখানোর ফাঁকে মামলার বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলেও জানান তিনি।
গত ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশলাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একই দিন রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন (১৭ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে কয়েক দফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি মিন্নির। এতে এ মামলায় জামিন চেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন মিন্নি। আদালতের নির্দেশে তিনি গণমাধ্যমে কোনও বক্তব্য দিতে পারছেন না।
গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে ছয় কিশোর অপরাধী শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে। এ ছাড়া, মিন্নিসহ জামিনে রয়েছেন দুইজন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।