বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড শূচিতা শরমিনকে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। যোগদানের দুইমাস পার হতে না হতেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়েছেন তিনি। বুধবার (২৭ নভেম্বর ) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্জে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে জানান, উপাচার্য নিয়োগের দুই মাস পার হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করতে পারে নি। মেডিকেলে ওষুধ নেই। দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। পরীক্ষা আটকে আছে। স্থবির হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়।
আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ পরিহার করার কথাও জানান ।
তবে জুলাই বিপ্লবে শহীদের স্মরণে অনুষ্ঠিত প্রোগ্রামে উপাচার্যের উপস্থিতি মেনে নিবে না শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ওই প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ও আলোচনা করেন তারা।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, জুলাই বিপ্লবের যে স্পীট তা উপাচার্য ধারণ করেন না। দীর্ঘ দুইমাস দায়িত্ব পালনকালে আমরা সেটাই দেখেছি। তার দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি কোনোভাবেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে থাকতে পারেন না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি উপাচার্যের পদত্যাগের। আমাদের এক দফা এক দাবি।
আলোচনা সভায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সুজয় শুভ বলেন, সকলের সমন্বিত সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। আমার আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে এ বিষয়ে আমাদের সকলকেই কথা বলতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর রাতে শিক্ষার্থীদের একাংশের বাধার মুখে ক্যাম্পাসে এসেও যোগদান করতে পারেননি নতুন নিয়োগ পাওয়া কোষাধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) আবু হেনা মোস্তফা কামাল খান। এদিকে নতুন কোষাধ্যক্ষকে দায়িত্ব নিতে বাধা দেওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসেন ফয়সাল পদত্যাগ করেন।