কিছু কথা না বলে পারছিনা। করোনাকে নিয়ে অনেক তালবাহানা হল আসলে কিছুতেই কিছু হলো না। কবে ভ্যাকসিন হাতে পাব সে খবর জানিনা।। মুখে মুখে নীতিকথা বুড়ো কথা সবাই কয়!! আসলে বাস্তবায়নে তিল পরিমাণও নয়।
মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। মাস্ক না পরলে জরিমানা। শীত বাড়ছে, বাংলার আকাশে আজ ধূলিকণার ঘনঘটা, তার শ্যামল প্রাণ-ধরে আজ করোনার আলপনা, কে তাকে আশা দেবে, কে তাকে ভরসা দেবে, কে তাকে শোনাবে জাগরণের অভয় বাণী? দিতে পারে কেবল মুখোশ। মাস্ক। সমস্যা হলো মুখঢাকা মুখোশের এই দুনিয়ায় মানুষকে।
মুখটা তো নয় মনের আয় না, মানুষের ভেতরের খবর তো কেউ পায় না। সাধু আর শয়তানে যে ভাই দুনিয়ায় চলেছে লড়াই, কে সাধু কে শয়তান কিছুই বলা যায় না। কে সাধু কে শয়তান বুঝবেন কী করে ভাই….
প্রবাদ আছে, বেটা সাধু বেশে পাকা চোর। হয়তো মুখোশটাই সত্য। মুখটাই একটা মায়া। আছে কি নেই, আমরা জানি না।
আর আমাদের জীবনটা কলুর বলদের মতো একই চক্রে ঘুরছে। কলুর বলদ দেখেছেন। তার চোখ ঠুলি পরা থাকে। সে জানে না, সে একই চক্রে ঘুরছে। আর গরু যখন ধানের বিচালি মাড়াই করে, তখন দেখেছেন। গরুর মুখে টোপর পরিয়ে দেওয়া হয়। যাতে সে বিচালি খেতে না পারে।
আমাদের জীবনে আমরা কলুর বলদের মতো চোখে ঠুলি পরেছি, মাড়াইয়ের গরুর মতো মুখে টোপর পরেছি, আর একই চক্রে ঘুরছি। আমরা দেখি না, আমরা খাই না। শুধু তা–ই না, আমরা বলিও না। সৈয়দ শামসুল হক লিখেছিলেন, মানুষের চোখ আছে তা দেখবার জন্য শুধু নয়, কাঁদবারও জন্য। আমরা বলি, মানুষের মুখ আছে, তা কেবল খাওয়ার জন্য নয়, বলবারও জন্য। আমাদের মুখে আমরা মুখোশ পরে আছি। আমরা মুখ দেখাব না এবং আমরা কিছু বলবও না। বোবার শত্রু নেই।সত্যিকার অর্থে বিরল আমরা এখন আর কারো শত্রু হতে চাই না।মুখ বুজে শত অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি মেনে নেই।এ যেন বোবার স্বর্গে আমাদের বসবাস….চোখ থাকিতেও অন্ধ হলাম। শিক্ষিত হয়েও অশিক্ষিত এর পরিচয় দিলাম। ভয়ে থরো কম্প!!না হয় জানি কখন সর্বনাশ।চোখ, কান, নাক, মুখ, সব কিছুতেই মেরে রেখেছি তালা। তবুও কেন যেন বুকে বড় জ্বালা…..
বেলাল আহমেদ শান্ত…….
লেখক, যুগ্ম-সম্পাদক………
রণাঙ্গনের মুখপত্র দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক জাগ্রত বরিশাল।
ই- মেইল: Belal Ahamed 555@gmail com….